শান্তিনগর

Tall building with shops and blue windows.
এলাকা সম্পর্কে

শান্তিনগর সম্পর্কে

শান্তিনগর নামের প্রতি সুবিচার করা এক এলাকার নাম। প্রাণচাঞ্চল্য আর ঐতিহ্য মিলে মিশে একাকার এই শান্তিনগর ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকাটি। হাতের নাগালে সব কিছু আর নাগরিক সেবা দুইয়ে মিলিয়ে শান্তিনগর যেন অপূর্ব শান্তির এক এলাকা। আর তাই এই এলাকায় চড়া দামে প্রোপার্টির চাহিদা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।

শান্তিনগরীতে প্রপার্টি

এই এলাকা অনেক আগে থেকেই অপরিসীম উন্নয়নের সাক্ষী। অনেক আগেই ঢাকার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলো। বর্তমানে প্রোপার্টির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও প্রপার্টি পাওয়া বেশ দুস্কর। এই এলাকাএ বেশ কিছু বিখ্যাত স্কুলেত কারণে অভিবাবকদের প্রথম পছন্দ শান্তিনগর। এই এলাকাটি পরিকল্পনায় আনা হয়েছিলো স্কুল,কলেজ,খোলা মাঠ ইত্যাদির জন্য। কিন্তু নব্বই দশক ও এর পরবর্তী সময়ে বেইলী রোডে শুরু হয় রেস্টুরেন্ট আর শপিং সেন্টারের বাহার। ঢাকা শহরের অনেক সুউচ্চ আবাসিক দালানও এখানে অবস্থিত।

যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা শহরের সব এলাকার সাথে উত্তম সংযোগ যদি কোন এলাকায় থেকে থাকে তাহলে শান্তিনগর তার মধ্যে প্রথম কাতারে। ঢাকা শহরের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থান থাকায় এই এলাকার বাসীন্দারা আর সবার থেকে একটু বেশিই সুবিধা ভোগ করেন। এলাকার মাঝ দিয়ে চলে গেছে বেইলী রোড। উত্তর ও পূর্ব দিকে আছে আউটার সার্কুলার রোড। পশ্চিমে মগবাজার রোডে যেটি দিয়ে সহজেই মগবাজার–মৌচাক ফ্লাইওভারে যাতায়াত সম্ভব। মতিঝিল,উত্তরা,বসুন্ধরার মতো নান্দনিক সব এলাকায় মগবাজার রোড ও আউটার সার্কুলার রোদ হয়ে যাওয়া সম্ভব।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

এই এলাকাটি স্কুল,কলেজ,ভার্সিটিতে ভরপুর। ভিকারুননিসা স্কুলের প্রধান শাখা বেইলী রোডে অবস্থিত। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের নাম ডাকও কম নয়।উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলও খুব কাছে কাকরাইলে অবস্থিত। শান্তিনগর ও সিদ্ধেশ্বরীতে আছে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ।

চিকিৎসা সুবিধা

উচ্চমানের কয়েকটি হাসপাতাল পাওয়া যাবে এই এলাকায়। মা ও শিশুর পরিচর্যার জন্য মনোয়ারা হাসপাতাল বেশ নাম কুড়িয়েছে। বাংলাদেশ আই হসপিটালও এখানে অবস্থিত। পপুলার ডায়গনস্টিকের ব্রাঞ্চ আছে এখানে। আছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালনায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালের আধিক্য থাকায় ফার্মেসির অভাব নেই শান্তিনগরে।

চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা

এই এলাকার খুব কাছেই রমনা পার্ক অবস্থিত। আয়তন আর ঐতিহ্যে এই পার্কের মতো পার্ক ঢাকা শহরের আর কোথাও নেই। এর মাঝখানে আছে লেক। সারা বছরই বিশেষ করে ছুটির সময়ে লোকারন্যে ভরে ওঠে এই এলাকা।মঞ্চ নাটকের তীর্থ ক্ষেত্র হচ্ছে এই এলাকা। এজন্য ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে নাটক সরণি নাম করণ করা হয় বেইলী রোডকে।

মসজিদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

মসজিদের শহর ঢাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটা মসজিদ।হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রথম পছন্দ সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির।খ্রিস্টান ধর্মের চার্চও আছে এই এলাকায়।

আশেপাশের এলাকা

শান্তিনগরের উত্তর দিকে আছে মগবাজার।পশ্চিমে ইস্কাটন এলাকায় বেশ সরকারি কোয়ার্টার অবস্থিত। রমনায় আছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার। দক্ষিণ-পূর্বে আছে সেগুনবাগিচা।আত একেবারে দক্ষিণ দিকে পল্টন আত দক্ষিণ পূর্বে ব্যাস্ত এলাকা মতিঝিলও অবস্থিত।

খাবার রেস্টুরেন্ট

শান্তিনগরের বেইলী রোড মানেই খাবার দাবার আর রেস্টুরেন্টের সমাহার। ফখরউদ্দীনের বিরিয়ানি এই অঞ্চলের সব থেকে বিখ্যাত। সন্ধাকালীন আড্ডা কিংবা রাত্রীকালীন খানাপিনায় পুরো শহরের লোক টুকটাক ভিড় জমায় এখানে।

কেনাকাটা

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স,কনকর্ড টুইন টাওয়ার,বেইলী স্টার,ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারের মতো নামীদামি শপিং সেন্টার আছে এই এলাকায়।কম্পিউটার সামগ্রীর অন্যতম বট বাজার ইস্টার্ন প্লাস অবস্থিত এখানে। আনারকলি মার্কেটকে তো ছোট খাটো নিউ মার্কেট বললেও ভুল হবে না। আর পুরো এলাকার অলি গলিতে আছে অসংখ্য মুদী দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর।

Compare listings

Compare