নিকুঞ্জ

Riverbank with palm trees and railway bridge.
এলাকা সম্পর্কে

নিকুঞ্জ সম্পর্কে 

ঢাকার সুন্দর সাজানো গোছানো আবাসিক এলাকার একটি হচ্ছে নিকুঞ্জ ।পুরো এলাকাটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।নিকুঞ্জ ১ যেটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বরাবর একটু দক্ষিণ দিকে বেশ ছিমছাম জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে।আর উত্তরে তুলনামূলক বেশি জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিকুঞ্জ ২।শহর থেকে অল্প একটু বাইরে কোলাহলমুক্ত সুন্দর পরিপাটি পরিবেশ সাথে উত্তম যোগাযোগ ব্যাবস্থা সব কিছুর সমন্বয়ে নিকুঞ্জ ঢাকা শহরের সর্বোত্তম বাসযোগ্য আবাসিক এলাকার একটি।বিলাসবহুল হোটেল,রেস্তোরাঁ কিংবা সরকারি বেসরকারি অফিস সব মিলিয়ে নিকুঞ্জ ঢাকার মানুষের কাছে বিশ্বস্ততা আর নির্মলতার প্রতীক।

নিকুঞ্জেতে প্রপার্টি

শহরের কোলাহল মুক্ত পরিবেশ সুন্দর সাজানো গোছানো আবাসিক এলাকা হিসেবে নিকুঞ্জ বেশ প্রসিদ্ধ।নিকুঞ্জ ১ এর ভবনগুলো অত্যন্ত বিলাসবহুলভাবে তৈরী।তভে এই এলাকার ভবন গুলো ৩ তলার বেশি গড়ে তোলার অনুমতি পায় না এয়ারপোর্টের রানওয়ে থাকার কারণে।উচ্চতার দিক দিয়ে নিকুঞ্জ ২ এর ভবন গুলো এগিয়ে তাই মানুষ বসবাসের সংখ্যাও এখানে বেশি।এখানে তুলনামূলক সুলভ ভাড়া এবং ফ্লাটের সহজপ্রাপ্যতার কারণে পরিবার কিংবা ব্যাচেলর সবার কাছেই নিকুঞ্জ ২ খুবই জনপ্রিয় একটি বাসযোগ্য এলাকা।বাণিজ্যিক প্রোপার্টি হিসেবেও নিকুঞ্জের সুনাম বিস্তৃত।নিকুঞ্জ  ২ এলাকাজুড়ে ও মেইনরোডের পাশ দিয়ে আছে অসংখ্য বাণিজ্যিক প্রপার্টি।বিঅারটিসি বাস ডিপোর পাশেই খিলক্ষেত থানা।একটু সামনেই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিস্তর অফিস কম্পাউন্ড,ডেসকোর অফিস ও এখানে।রাজউক ট্রেড সেন্টারে আছে হোটেল ঢাকা রিজেন্সির মতো খ্যাতনামা হোটেল।লা মেরিডিয়ানের মতো হোটেলও নিকুঞ্জ এলাকার শেষ প্রান্তে অবস্থিত।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাদের নিজস্ব ভবন থেকে।লোটাস কামাল টাওয়ার এবং নিটল নিলয় টাওয়ারের মতো উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পেট্রোল পাম্প এবনহ সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনেরর অভাব নেই এলাকায়।সব মিলিয়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে নিকুঞ্জ ঢাকা শহরের দ্য নেক্সট বিগ থিং।

যাতায়াত ব্যবস্থা 

নিকুঞ্জের একপাশে বিমানবন্দরের সুবিশাল রানওয়ে আর অন্যপাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যাবস্থায় নিকুঞ্জ অত্যন্ত দারুণ এলাকা।অভ্যন্তরীণ কিংবা বহির্গমনে নিকুঞ্জের যাতায়াত ব্যাবস্থা অনেক উন্নত।নিকুঞ্জ ১  এ আছে ১ থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত রোড যার ৯ এবং ১০ আবার এ,বি,সি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।অন্যদিকে নিকুঞ্জ ২ এ আছে সর্বমোট ২১ নম্বর পর্যন্ত রোড।পুরো এলাকা রিকশা তো বটেই হাইওয়েতে চলা বাস সার্ভিস ফ্রন্ট রোডে রয়েছে এমনকি ঢাকার বাইরে যাবার জন্যেও সবধরনের যানবাহনের সুন্দর ব্যাবস্থা বিদ্যমান।মেইন রোডে বিলাসবহুল পাঁচতারকা হোটেল এবং বেশিরভাগ ভাগ সরকারি বেসরকারি অফিস।নিকুঞ্জ থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার অতি নিকটে এবং এটি দিয়ে পূর্বাচল,তিনশো ফিট বা প্রগতি সরণি তথা রামপুরা বাড্ডা রোডে উঠা যায়।বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা বিঅারটিসি ডিপো তো আছে সাথে আছে দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

নিকুঞ্জ ২ এ আছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।২ নম্বর রোডে মার্ক আইডিয়াল স্কুল,পাশের রোডেই গ্রীন অ্যারো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল,সানশাইন স্কুল,স্টারলিট স্কুল অব ইংলিশ সহ জান-ই-আলম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং সিভিল এভিয়েশন হাইস্কুল নিকুঞ্জেই অবস্থিত।ইংলিশ এ বাংলা মিডিয়ানের অনেক স্কুল তো আছেই তাছাড়া উত্তরার খুব কাছে হওয়ায় যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা যায় খুব সহজে।

চিকিৎসা সুবিধা 

মেইনরোডের সাথেই মেডিটেক জেনারেল হাসপাতাল এবং সিটি ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল।তবে এখান থেকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল খুব নিকটে হওয়ায় সেখানে চিকিৎসার সুবিধা ব্যাপক আর উত্তরার খুব নিকটে হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করতে পারেন নিকুঞ্জের বাসীন্দারা।

চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা 

কোলাহল মুক্ত ছিমছাম পরিবেশ হওয়ায় নিকুঞ্জ চিত্তবিনোদনের জন্য বেশ জনপ্রিয়।নিকুঞ্জ ২ এ আছে সুবিশাল খেলার মাঠ যেখানে সব সময় খেলাধুলায় মত্ত ছেলেমেয়েদের দেখা যায়।নিকুঞ্জ ১ এর লেক ও লেকের ধার দিয়ে গড়ে উঠেছে চমৎকার নিকুঞ্জ ১ লেক পার্ক।হাটাচলা ও সময় কাটানোর জন্য লেক পার্কটি বেশ দৃষ্টিনন্দন।

মসজিদ অনান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

নিকুঞ্জ ১ ও ২ এ দুটি আলাদা মসজিদ আছে যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের সমাগম চোখে পড়ার মতো।তাছাড়া বিঅারবি মসজিদ,টিনশেড মসজিদ,মৃধাপাড়া জামে মসজিদ তো আছেই।

আশেপাশের এলাকা

নিকুঞ্জের অতি নিকটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।এয়ারপোর্ট টার্মিনাল আর রানওয়ে জুড়ে নিকুঞ্জের উত্তর ও পশ্চিম পাশের এলাকা।ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের ওপারে আছে বিস্তৃত খিলক্ষেত এলাকা।নিকুঞ্জের দক্ষিণ পাশে আর্মি গলফ ক্লাবের এলাকাম।আত নিকুঞ্জ ১ এর শেষে থাকা কুড়িল ফ্লাইওভার ব্যাবহার করে সহজেই বসুন্ধরা এলাকায় যাতায়াত সম্ভব।

খাবার রেস্টুরেন্ট

বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে ছোট খাটো কিংবা মাঝারীমানের সব ধরনের রেস্টুরেন্ট আছে নিকুঞ্জ এলাকায়।হোটেল ঢাকা রিজেন্সি,লা মেরিডিয়ানের পাশাপাশি আছে ঢাকা স্পাইস অ্যান্ড পার্টি সেন্টার,গ্রাম বাংলা রেস্টুরেন্ট,মারওয়া কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট,কলাপাতার মতো প্রসিদ্ধ রেস্তোরাঁ আছে নিকুঞ্জে।তাছাড়া নিকুঞ্জের স্ট্রিট ফুডও বেশ জমজমাট।

কেনাকাটা

নিকুঞ্জের অভ্যান্তরে পর্যাপ্ত সুপার শপ ও কাঁচাবাজার দোকানপাট বিদ্যমান।তবে এলাকায় তেমন কোন বড় শপিং সেন্টার না থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মল যমুনা ফিচার পার্ক অতি নিকটে।

Compare listings

Compare